বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক কেবল বন্ধু-বান্ধবের সাথে যুক্ত থাকার প্ল্যাটফর্ম নয়,
ফেসবুক থেকে বর্তমানে বহুমুখী উপায়ে আয় করা সম্ভব। পেজ বা ব্যক্তিগত আইডিকে 'প্রফেশনাল মোড'-এ রূপান্তর করে ব্যবহারকারীরা নিচের মাধ্যমগুলোতে সফল হতে পারেন:
· ইন-স্ট্রিম বিজ্ঞাপন: ভিডিওর শুরুতে বা মাঝে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আয়ের ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া সম্ভব।
· স্টার ও গিফটিং: লাইভ ভিডিও বা রিলসে দর্শকরা সরাসরি 'স্টার' পাঠিয়ে নির্মাতাকে আর্থিকভাবে সহায়তা করতে পারেন।
· সাবস্ক্রিপশন ও স্পন্সরশিপ: এক্সক্লুসিভ কনটেন্টের জন্য মাসিক ফি নির্ধারণ বা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য প্রচারের (ব্র্যান্ডেড কনটেন্ট) মাধ্যমে বড় অংকের আয় করা যায়।
· মার্কেটপ্লেস ও অ্যাফিলিয়েট: নিজের পণ্য বিক্রি বা অ্যামাজন-দারাজের মতো প্রতিষ্ঠানের পণ্যের লিংক শেয়ার করে কমিশন পাওয়ার সুবিধাও এখানে রয়েছে।
মনিটাইজেশন ও টাকা তোলার পদ্ধতি: ফেসবুকের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ইনভাইটেশন পাওয়ার পর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যোগ করে টাকা তোলা যায়। বাংলাদেশের যেকোনো অনুমোদিত ব্যাংকের মাধ্যমে পেমেন্ট নেওয়া সম্ভব হলেও বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ) সুবিধাটি যুক্ত হয়নি।
ফেসবুকের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। মার্ক জাকারবার্গ তার সহপাঠী এদুয়ার্দো স্যাভারিন, ডাস্টিন মস্কোভিৎজ এবং ক্রিস হিউজকে সাথে নিয়ে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। জাকারবার্গের প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি ঝোঁক এবং হার্ভার্ডে সাইকোলজি ও কম্পিউটার সায়েন্স পড়ার অভিজ্ঞতা এই প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
শুরুতে এটি কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য হলেও দ্রুতই এর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে। ২০০৪ সালেই সদর দপ্তর ক্যালিফোর্নিয়ার পালো অল্টোতে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং পিটার থিয়েলের কাছ থেকে প্রাথমিক বিনিয়োগ পায় কোম্পানিটি। ২০২১ সালে ভবিষ্যতের 'মেটাভার্স' প্রযুক্তির দিকে নজর দিতে মূল কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে 'Meta' রাখা হয়। বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ার মেনলো পার্কে এর প্রধান কার্যালয় অবস্থিত।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন