পলাশী যুদ্ধের আগে এক দুর্ভিক্ষপীড়িত জনপদের পানির তৃষ্ণা মেটাতে খনন হয়েছিল এই দীঘি। আজ সেই দীঘিই বাংলাদেশের বৃহত্তম মানবসৃষ্ট জলাশয়
দিনাজপুর সদর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে আউলিয়াপুর ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামে অবস্থিত রামসাগর দীঘি শুধু একটি জলাশয় নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন গন্তব্য। দীঘির দৈর্ঘ্য ১,০৩১ মিটার, প্রস্থ ৩৬৪ মিটার এবং গড় গভীরতা ১০ মিটার। পাড়ের উচ্চতা ১৩.৫ মিটার, যা দীঘিটিকে এক অনন্য ভৌগোলিক রূপ দিয়েছে।
রামসাগর দীঘিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে রামসাগর জাতীয় উদ্যান। উদ্যানের ভেতরে রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানা যেখানে অজগর, বানর ও হরিণ দেখা যায়। শিশুদের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় শিশুপার্ক এবং পিকনিকপ্রেমীদের জন্য ৭টি পিকনিক কর্নার। ২০১০ সালে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা একটি পাঠাগারও রয়েছে উদ্যানের ভেতরে।
থাকার জন্য বন বিভাগের বাংলো ব্যবহার করা যায়, যেখানে সাধারণ ও এসি কক্ষে প্রতি রাতের খরচ ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা। পর্যটন বিভাগের পক্ষ থেকে একটি আধুনিক রেস্ট হাউজও নির্মাণ করা হয়েছে।
তবে সতর্কতার বিষয়ও রয়েছে। উদ্যানের আশপাশে মাদক ব্যবসার কারণে পর্যটকরা মাঝেমধ্যে হয়রানির শিকার হন। তাই বড় দলে ভ্রমণ করা এবং স্থানীয় কাউকে সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়ে দিনাজপুরের মহারাজা রামনাথ তাঁর রাজ্যের প্রজাদের জন্য এই দীঘি খনন করান। উদ্দেশ্য ছিল তিনটি — সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা, পানির সংকট দূর করা এবং খরা-দুর্ভিক্ষের সময় প্রজাদের কর্মসংস্থান দেওয়া। রাজার নামানুসারেই দীঘিটির নামকরণ হয় "রামসাগর"। পলাশী যুদ্ধের ঠিক আগের এই নির্মাণকীর্তি আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ১৫০ ফুট দীর্ঘ বেলেপাথরে বাঁধাই মূল ঘাটটি সেই ঐতিহাসিক যুগের স্মৃতি বহন করে চলেছে প্রতিদিন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন